বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি:
অবশেষে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে পেলেন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ইউনিয়নের মানইর গ্রামের বৃদ্ধ কফিল প্রামানিক (৭০) ও তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছেলে আসমত প্রামাণিক (৫২)। দীর্ঘদিন ধরে পলিথিনের নিচে অত্যন্ত অমানবিকভাবে বসবাস করার পর, অবশেষে একটি নবনির্মিত ঘরের চাবি বুঝে পেয়েছেন তারা। গত শুক্রবার বিকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কাছে এই নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন।
বিগত ৩০ ও ৩১ আগস্ট বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের অনলাইন, মাল্টিমিডিয়া ও প্রিন্ট সংস্করণে অসহায় এই পিতা-পুত্রের জীবনের চরম দুর্দশা নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর তা দ্রুত নজরে আসে ঢাকাস্থ বড়াইগ্রাম উপজেলা সমিতি ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের। এরপরই তাদের স্থায়ী আবাসনের জন্য দুই পক্ষের যৌথ উদ্যোগে দ্রুত পুনর্বাসনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
অসহায় এই পরিবারের জন্য একটি টেকসই ঘর নির্মাণের লক্ষ্যে ঢাকাস্থ বড়াইগ্রাম উপজেলা সমিতি এবং উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে অর্থায়নে এগিয়ে আসে। সর্বমোট এক লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে কফিল প্রামানিক ও তার ছেলের বসবাসের জন্য ঘরটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়।
ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ। চাবি বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই পরিবারের দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট দূর করার উদ্যোগ নেন। তাদের পানির সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে তিনি নিজস্ব উদ্যোগে দ্রুত একটি বিদ্যুৎচালিত পাম্প (মোটর) দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
নতুন ঘরের চাবি হাতে পেয়ে পলিথিনের নিচে দিন কাটানো বৃদ্ধ কফিল প্রামানিক ও তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছেলে আসমত প্রামাণিক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টির সাথে লড়াই করা এই পরিবারটি নতুন স্থায়ী ঠিকানা পেয়ে প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।