সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন

জন্ম থেকেই অন্ধ, তবুও স্বপ্ন দেখেন স্বাবলম্বী হওয়ার—আব্দুল মমিনের ছোট্ট দোকানেই বেঁচে থাকার লড়াই
অনলাইন ডেস্ক / ১১৫ বার
আপডেট টাইমঃ মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

 

 

মোঃ মিজানুর রহমান , বড়াইগ্রাম, (নাটোর) প্রতিনিধি।

 

জন্ম থেকেই চোখের আলো নেই। চারপাশের পৃথিবীটা তিনি দেখেন না, কিন্তু জীবনকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্নটা ঠিকই দেখেন। সেই স্বপ্ন নিয়েই প্রায় ১০ বছর ধরে ছোট্ট একটি দোকান চালিয়ে সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করছেন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ১ নম্বর জোয়াড়ী ইউনিয়নের কাটাশকোল গ্রামের আব্দুল মমিন।

 

দোকানে মোবাইল ফোন রিচার্জ, মোবাইল ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনো রকমে চলে তার পরিবার। কিন্তু আয় খুবই সামান্য। তার ওপর অনেক সময় সেবা নিয়ে কেউ কেউ টাকা না দিয়েই চলে যান। ফলে দিন শেষে হিসাব মেলানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

 

আব্দুল মমিনের পরিবারে রয়েছেন ছয়জন সদস্য। তার বাবা একজন কৃষক। পরিবারের সীমিত আয়ের ওপর নির্ভর করে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে দোকানটি নতুন করে সাজানো কিংবা প্রয়োজনীয় মালামাল বাড়ানোর মতো সামর্থ্য নেই।

 

মমিনের একমাত্র ছেলে, বয়স মাত্র আট বছর। সে একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। ছেলের পড়াশোনা ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে প্রতিদিনই নতুন করে লড়াই করতে হয় তাকে।

 

তবুও থেমে নেই তার স্বপ্ন।

 

আব্দুল মমিনের স্বপ্ন—ছোট্ট দোকানটিকে বড় করবেন, দোকানে আরও মালামাল তুলবেন এবং নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাবেন। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই স্বপ্ন যেন বারবার থমকে যাচ্ছে।

 

বর্তমানে তার দোকানের অবস্থাও খুবই জরাজীর্ণ। দোকানটি সংস্কার করে নতুনভাবে সাজানো এবং প্রয়োজনীয় মালামাল তুলতে পারলে আয় বাড়বে—এমনটাই আশা মমিনের। এতে নিজের পরিবারের পাশাপাশি বাবা-মায়ের দায়িত্বও আরও ভালোভাবে পালন করতে পারবেন তিনি।

 

জীবনের আরেকটি বিষয়েও তিনি অনন্য। নিয়মিত আজানের সময় হলে দোকান বন্ধ করে নামাজ আদায় করেন আব্দুল মমিন। চোখে আলো না থাকলেও বিশ্বাস ও দায়িত্ববোধে যেন কোনো ঘাটতি নেই তার।

 

একদিকে দারিদ্র্য, অন্যদিকে জন্মগত অন্ধত্ব—সবকিছুর মাঝেও নিজের শ্রমে বাঁচতে চান তিনি। কারও কাছে হাত পেতে নয়, একটি স্বাবলম্বী দোকান গড়ে নিজের পরিবারকে একটু ভালো রাখাই তার স্বপ্ন।

 

সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষ যদি তার পাশে দাঁড়ান, দোকানটি সংস্কার করে প্রয়োজনীয় মালামাল তুলে দিতে সহযোগিতা করেন, তাহলে হয়তো আব্দুল মমিনের দীর্ঘদিনের স্বপ্নটি বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

 

চোখে আলো না থাকলেও নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে মানুষটি এত বড় স্বপ্ন দেখেন, তার সেই স্বপ্ন পূরণে একটু সহযোগিতাই হয়ে উঠতে পারে একটি পরিবারের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট