মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন

শার্শা ও বেনাপোল শারদীয় দুর্গোৎসবের নিরঞ্জন আজ
অনলাইন ডেস্ক / ৫০ বার
আপডেট টাইমঃ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

 

মনির হোসেন,বেনাপোল প্রতিনিধি:

মন্দির-মণ্ডপে বেজে গেছে মায়ের বিদায়ের ঘণ্টা। হাসিমুখে অশ্রু লুকিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভক্তরা। বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎবের

 

আজ বুধবার২১অক্টোবর সমাপনী দিন। ছয় দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজার পঞ্চম দিন মঙ্গলবার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহানবমী পূজা সম্পন্ন হয়েছে। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে, যশোর বেনাপোল পাট বাড়ি আশ্রমে আজ সকাল ৮টা ৫২ মিনিটের মধ্যে মহাদশমীর কল্পারম্ভ, পূজা সমাপন ও দর্পণ নিরঞ্জন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়েই দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যাবেন। তাই ভক্তদের মনে এখন বিষাদের ছায়া। মাঙ্গলিক আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার মহানবমী পূজা সম্পন্ন এবং মহাদশমী পূজার সূচনা হয়।

 

সকাল ৬টা থেকে শুরু হয় নবমী বিহিত পূজা। ১০৮টি বেলপাতা, বেল কাঠ ও ঘি দিয়ে যজ্ঞের মাধ্যমে দেবী দুর্গার কাছে আহুতি দেওয়া হয়। সনাতন ধর্মমতে, নবমীর পুণ্য তিথিতে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে বিশ্বে শুভ শক্তির প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন দেবী দুর্গা। নবমী তিথি শুরু হয় সন্ধিপূজা দিয়ে। দেবীকে ১০৮টি পদ্মফুল উৎসর্গ, অসুর শক্তির বিনাশ ও দেশবাসীর মঙ্গল কামনায় হোমযজ্ঞ ও অঞ্জলি প্রদানের মধ্য দিয়ে মহানবমী সম্পন্ন হয়। এসময় ভক্তরা মাতৃবন্দনায় মেতে ওঠেন এবং পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার চরণে অর্ঘ্য নিবেদন করেন। তিথি অনুযায়ী সন্ধিপূজা হয় অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট ও নবমীর প্রথম ২৪ মিনিট-সর্বমোট ৪৮ মিনিটে। এসময় দেবী চামুণ্ডার পূজা করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এদিনই দুর্গাপূজার অন্তিম দিন। কারণ পরের দিন মহাদশমী কেবল বিসর্জনের পর্ব। নবমীর রাতেই উৎসবের রাত শেষ হয় এবং দশমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে বাজে বিদায়ের ঘণ্টা। দশমীর পূজা সম্পন্নের পর দুর্গাপূজার সর্বশেষ রীতি ‘দেবী বরণ’। বিবাহিত নারীরা সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিয়ে প্রথমে দেবীকে সিঁদুর ছোঁয়ান। এরপর তারা একে অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। এভাবেই তারা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান এবং আগামী বছর সুখ-শান্তিতে কাটানোর প্রার্থনা করেন। বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও যশোরের শার্শা ও বেনাপোল পৌরসভার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রতিমা নিরঞ্জনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বৈদ্যনাথ দাস জানান, আজ বিকেল ৫টা থেকে নৌকায় করে নদী, খাল, পুকুর, প্রতিমা নিরঞ্জন করা হবে। সরেজমিনে দেখা গেছে, শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব ঘিরে পৌর এলাকার ০৪টি পূজা মন্দির ও মণ্ডপ সংলগ্ন সড়কের পাশে পসরা সাজিয়ে বসেছে মেলা। দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে পৌর এলাকায় মেলা সকলের নজর কেড়েছে। সুসজ্জিত তোরণ ও বৈদ্যুতিক রঙিন আলোকসজ্জায় আলোকিত হয়ে উঠেছে প্রতিটি মন্দির-মণ্ডপ প্রাঙ্গণ।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট