সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন

পাবনার আটঘরিয়ায় অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধ স্থায়ী তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের দাবি
অনলাইন ডেস্ক / ৪২ বার
আপডেট টাইমঃ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

 

 

মোঃ রাজিব হোসেন পাবনা প্রতিনিধি

 

পাবনা, ২২ অক্টোবর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার): পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার মাছপাড়া ইউনিয়নের কালামনগর বংশীপাড়া স্মৃতিসৌধ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও অযত্নে পড়ে রয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ১০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিবিজড়িত এই স্মৃতিসৌধ যথাযথ সংরক্ষণ ও নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং একজন স্থায়ী তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের দাবি উঠেছে।

 

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম জানান, ১৯৭১ সালের ৬ নভেম্বর মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে তাঁদের ১০ জন সহযোদ্ধা শহীদ হন। তাঁদের আত্মত্যাগের স্মৃতি অম্লান রাখতে এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। প্রতিবছর ৬ নভেম্বর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে এখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানের আগে স্মৃতিসৌধ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হলেও বছরের অন্যান্য সময়ে নিয়মিত পরিচর্যার ঘাটতি দেখা যায়।

 

তিনি আরও বলেন, তাঁর দায়িত্বকালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজের অর্থ ব্যয় করে স্মৃতিসৌধটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতেন। পরবর্তীতে মাছপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ খান স্মৃতিসৌধটির দেখভালের দায়িত্ব নেন। স্মৃতিসৌধের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারিভাবে একজন কেয়ারটেকার বা তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কার্যকর সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।

 

এ বিষয়ে মাছপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ খান জানান, স্মৃতিসৌধটির চারপাশে সীমানাপ্রাচীর রয়েছে এবং সেখানে তালা দেওয়া থাকে। তবে শুধু সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও তালাবদ্ধ রাখলেই যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত হয় না। এর জন্য নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক তদারকি প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারিভাবে একজন কেয়ারটেকার নিয়োগ দেওয়া হলে স্মৃতিসৌধটি নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে। এতে পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং নতুন প্রজন্ম মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে আরও বেশি জানতে পারবে।

 

স্থানীয়দের মতে, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এ ধরনের স্থাপনা শুধু ইট-পাথরের অবকাঠামো নয়; এগুলো জাতির গৌরব, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। তাই কালামনগর বংশীপাড়া স্মৃতিসৌধের যথাযথ সংরক্ষণ, নিয়মিত পরিচর্যা এবং স্থায়ী তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

 

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, যাতে ১৯৭১ সালের ৬ নভেম্বর শহীদ হওয়া ১০ বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিবিজড়িত এই স্মৃতিসৌধ যথাযথ মর্যাদা, পরিচ্ছন্নতা ও সুন্দর পরিবেশে সংরক্ষিত থাকে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট