মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন

বড়াইগ্রামে ৪ বছরের শিশুর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার: দেহ ব্যবসার আড়ালে নৃশংস হত্যাকাণ্ড?
অনলাইন ডেস্ক / ৫৭ বার
আপডেট টাইমঃ শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক,

নাটোরের বড়াইগ্রামে রাতের আঁধারে ৪ বছর বয়সী এক অবোধ শিশুর রহস্যজনক ও নির্মম মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা, গণক্ষোভ ও চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিশুর নাম মঞ্জিলা (৪)। সে তার মা রহিমা বেগমের সাথে নানা রফিকুল ইসলামের বাড়ি বড়াইগ্রাম উপজেলার কুন্ডুপাড়ায় থাকত। ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত নারী এবং তার অন্ধকার জগতের সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় পুরো বিষয়টি এখন ভিন্ন মোড় নিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং অনৈতিক, লম্পট ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ধামাচাপা দিতেই অবোধ শিশু মঞ্জিলাকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে ইতিমধ্যে নিহত শিশুর স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা কুন্ডুপাড়া হিসেবে নিশ্চিত করেছে এবং জড়িতদের অবস্থান শনাক্তে কাজ করছে।

জঙ্গলে মশারি টাঙিয়ে দেহ ব্যবসা!

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, কুন্ডুপাড়া এলাকার যে নির্জন স্থানে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে সেটি মূলত একটি গহীন ও পরিত্যক্ত জঙ্গল, যেখানে দিনের বেলাতেও সাধারণ মানুষ চলাফেরা করতে ভয় পায়। এলাকাবাসীর তীব্র অভিযোগ, এক বহিরাগত নারী দীর্ঘদিন ধরে এখানে স্থায়ীভাবে না থেকে টাকার বিনিময়ে প্রকাশ্য দেহ ব্যবসা ও অনৈতিক অপরাধের আখড়া গড়ে তুলেছিলেন। স্থানীয়রা জানান, ওই নারী নির্জন জঙ্গলে একটি মশারি টাঙিয়ে রাখতেন এবং রাতের আঁধারে সেখানে বহিরাগত অপরাধী ও লম্পট পুরুষদের আনাগোনা ছিল। ঘটনার রাতেও সেখানে একাধিক অজ্ঞাত পরিচয় পুরুষ উপস্থিত ছিল বলে এলাকাবাসী সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে অপরাধের সাথে জড়িত ওই পুরুষদের কাউকেই স্থানীয় কেউ চেনেন না বলে দাবি করেছেন।

অপরাধ লুকাতেই কি অবোধ শিশুকে হত্যা?

এলাকাবাসীর মনে এখন সবচেয়ে বড় ও জ্বলন্ত প্রশ্ন— একটি গহীন জঙ্গলে অনৈতিক ও পশুতুল্য কাজের সময় শিশু মঞ্জিলা কি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল? নাকি কোনো অপরাধের চাক্ষুষ সাক্ষী হয়ে যাওয়ায় তাকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে? স্থানীয়দের দাবি, পানিতে ডুবে মরলে শিশুর পেটে পানি থাকার কথা, কিন্তু এই শিশুর শরীরে তেমন কোনো আলামত ছিল না। জঙ্গল থেকে অনৈতিক কাজের নানা আপত্তিকর আলামত উদ্ধারের পর স্থানীয়দের নিশ্চিত ধারণা, নিজেদের কুৎসিত অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অপরাধ আড়াল করতেই শিশুটিকে প্রথমে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং পরে লাশ পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান, হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ

নৃশংস এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরপরই ওই নারী ও তার সাথে থাকা অপরাধী পুরুষ সিন্ডিকেটের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ও কঠোরভাবে নিয়েছে। পলাতক নারী এবং ঘটনার সাথে জড়িত পুরুষদের পরিচয় শনাক্ত ও তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারে এলাকায় জোর তৎপরতা ও সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন।

এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে শিশু মঞ্জিলা খুনের সাথে জড়িত সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি তুলেছেন। বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের ধরতে এবং ঘটনার পেছনের মূল রহস্য উদঘাটনে তদন্ত ও বিশেষ অভিযান একযোগে চালানো হচ্ছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট