স্টাফ রিপোর্টার:
দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ওপর সব ধরনের নির্যাতন বন্ধ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতের দাবিতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ‘প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজ কল্যাণ পরিষদ’। অধিকারবঞ্চিত ও মেহনতি এই শ্রমিকদের পাওনা আদায়ে সংগঠনটি যেকোনো পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে পাশে থাকবে বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে।
এক বিশেষ বিবৃতিতে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজ কল্যাণ পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম রানা গার্মেন্টস শ্রমিকদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দেশের অর্থনীতিকে সচল ও মজবুত রাখতে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের পাশাপাশি দেশের ভেতরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের অক্লান্ত শ্রম সমভাবে ভূমিকা রাখছে। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এই বিশাল শ্রমিক জনগোষ্ঠী এখনো তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা মালিকপক্ষের আইনি বাধ্যবাধকতা এবং এটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রেরও অন্যতম প্রধান কর্তব্য। এই অধিকার নিয়ে কোনো রকম অবহেলা বরদাশত করা হবে না।”
চেয়ারম্যান সেলিম রানা সংগঠনের পক্ষ থেকে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সার্বিক সুরক্ষায় ও অধিকার আদায়ে ৫ দফা কঠোর দাবি উত্থাপন করেন:
• ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ: গার্মেন্টস শ্রমিকদের আইনসম্মত ও মানবিক সকল অধিকার অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে।
• বেতন বৃদ্ধি: বর্তমান বাজারদরের ঊর্ধ্বগতির সাথে সংগতি রেখে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ও বেতন সম্মানজনক পর্যায়ে বৃদ্ধি করতে হবে।
• যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়ন: শ্রমিকদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সকল প্রকার বৈধ ও যৌক্তিক দাবি অনতিবিলম্বে মেনে নিতে হবে।
• নির্যাতন বন্ধ করা: কর্মক্ষেত্রে বা বাইরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ওপর যেকোনো ধরনের অন্যায় অত্যাচার, নিপীড়ন ও মানসিক-শারীরিক নির্যাতন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
• নিরাপদ কর্মপরিবেশ: প্রতিটি কারখানায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের জন্য সম্মানজনক জীবনযাপনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
“ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক, শক্তিশালী অধিকার”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান সেলিম রানা দেশে ও প্রবাসে অবস্থানরত সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আসুন, আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে গার্মেন্টস শ্রমিকদের এই ন্যায্য আন্দোলন ও অধিকার আদায়ের পাশে দাঁড়াই। শ্রমিকের শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই নৈতিক সমর্থন ও কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।”