নিজস্ব প্রতিবেদক
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ২ নং বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের খাকশা গ্রামের বাসিন্দা মিঠু মুমিন আলীর স্ত্রী এক চরম অসহায় ও দরিদ্র নারী। স্বামীহীন এই নারীর জীবনে একমাত্র অবলম্বন তার সন্তান শামীম ইসলাম। দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত এই পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে।
বর্তমানে ওই নারী এমন একটি মারাত্মক ও যন্ত্রণাদায়ক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, যার ফলে তার শরীরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে, পায়ের পাতা থেকে মাংস খসে খসে পড়ছে। জীবিত অবস্থায় নিজের শরীরের এমন নির্মম অবক্ষয় তিনি প্রতিদিন চোখের সামনে দেখছেন। যন্ত্রণায় কাতর হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন, তবুও বাঁচার আকুতি থামেনি।
চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা না পেলে তার জীবন যে কোনো মুহূর্তে বিপন্ন হতে পারে। কিন্তু চিকিৎসার জন্য যে বিপুল অর্থ প্রয়োজন, তা জোগাড় করার মতো কোনো সামর্থ্য এই পরিবারের নেই। শেষ সম্বলটুকুও ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
অসহায় ছেলে শামীম ইসলাম চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে বলেন,
“আমার মা বাঁচতে চায়। কিন্তু আমাদের কাছে চিকিৎসার টাকা নেই। আমি দেশবাসী, প্রবাসী ভাই-বোন এবং সমাজের বিত্তবানদের কাছে হাত পেতে অনুরোধ করছি—দয়া করে আমার মায়ের পাশে দাঁড়ান। আপনাদের সহযোগিতাই পারে আমার মাকে নতুন জীবন দিতে।”
তিনি আরও জানান, শুধু দারিদ্র্যের কারণেই চিকিৎসার কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিটি দিন, প্রতিটি রাত কাটছে অনিশ্চয়তা আর মৃত্যুভয়ের মধ্যে।
এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন।
মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোঃ আল আরাফাত শান্ত-এর নির্দেশনায় এই মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন—
সদস্য পরিচালক মাশরাফি বিন মহাতাব,
প্রধান নির্বাহী পরিচালক আল শাহারিয়ার স্বাধীন,
কার্যনির্বাহী সদস্য ও মিডিয়া সেল সদস্য তাহসিনুর আলম,
এছাড়া ফাউন্ডেশনের সদস্য সোহানুর রহমান, সাজেদুল শান্ত ও হাবিবুর রহমান।
তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হলেও রোগীর পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার জন্য আরও বড় পরিসরে সহযোগিতা জরুরি। এমতাবস্থায় বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত প্রবাসীদের প্রতি বিশেষভাবে মানবিক দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্বশীল মহল এগিয়ে এলে এই অসহায় নারীর জীবন রক্ষা করা এখনো সম্ভব। একই সঙ্গে দেশবাসীর কাছে বিনীত অনুরোধ—এই মায়ের সুস্থতার জন্য দোয়া করুন এবং যার যার অবস্থান থেকে সামান্য হলেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। মানবতার স্বার্থে প্রতিবেদনটি বেশি বেশি শেয়ার করে পৌঁছে দিন উপজেলা প্রশাসন, প্রবাসী ও সহানুভূতিশীল মানুষের কাছে—কারণ আপনার একটি শেয়ার, একটি সহানুভূতিই বাঁচিয়ে দিতে পারে একটি প্রাণ।