মেলান্দহ প্রতিনিধি (জামালপুর)
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত এক নারী চিকিৎসকের সঙ্গে অসদাচরণের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি লিখিত মুচলেকা দিয়ে ও ক্ষমা প্রার্থনা করে ছাড়া পেয়েছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে তিনি লিখিত মুচলেকা দেন এবং মৌখিকভাবে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। এ সময় জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আহসান হাবীবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযুক্তের নাম মো. সজীব মিয়া। তিনি মেলান্দহ পৌরসভার শাহজাদপুর আকন্দপাড়া এলাকার মৃত সিরাজ আকন্দের ছেলে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, রোগীকে ভর্তি করার প্রয়োজন নেই এবং বাসায় ওষুধ খেলেই সুস্থ হয়ে যাবে। তবে এতে অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি জোরপূর্বক রোগী ভর্তি করানোর জন্য চাপ দেন।
চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি নারী আবাসিক মেডিকেল অফিসারের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে হুমকি দেন। এতে হাসপাতালের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনার পর চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আহসান হাবীব ও সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুল হকের নেতৃত্বে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ডেকে আনা হয়।
এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের ভুল স্বীকার করেন, চিকিৎসকের কাছে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ করবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা প্রদান করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আহসান হাবীব বলেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে অসদাচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হাসপাতালের পরিবেশ শান্ত ও নিরাপদ রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। মেলান্দহবাসীর সেবায় তারা সর্বদা নিয়োজিত। সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম আরও নিরাপদ ও কার্যকর হবে।
মোঃ মানিক শেখ
মেলান্দহ, জামালপুর