শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন

নিপা ভাইরাস’ নিয়ে নেই সতর্কবার্তা : স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা আসেনি বেনাপোল বন্দর এলাকায়
অনলাইন ডেস্ক / ৭৭ বার
আপডেট টাইমঃ সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি:

 

সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ছড়িয়ে পড়া ‘নিপা ভাইরাস’ নিয়ে এদেশের চেকপোস্ট ও স্থলবন্দরে সতর্কতার কোনো ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। দায় সারা দায়িত্ব পালন করছে সবাই। এখানে ভারত থেকে আসা যাত্রীদের ঠিকঠাকভাবে স্ক্রিনিং করার কোনো ব্যবস্থা নেই। যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপার থার্মাল স্ক্যানারই একমাত্র ভরসা। কপালে ঠেকিয়ে তাপমাত্রা নির্ণয় করা ছাড়া আর কোন কাজ নেই। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে ‘নিপা ভাইরাস’ প্রতিরোধে বন্দর এলাকায় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এখনো অফিসিয়াল কোনো নির্দেশনা পায়নি যশোরের বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ বা শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বেনাপোল স্থলবন্দর ও স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জানা যায়, ভারত বাংলাদেশের নিকট প্রতিবেশি বিধায় প্রতিনিয়তই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ রয়েছে। ভারতে যাতায়াতকারী পাসপোর্টযাত্রীর সংখ্যা কমলেও বর্তমানে প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি যাত্রী যাতায়াত করে থাকেন।

বন্দর ও কাস্টমসের তল্লাশি কেন্দ্রের মধ্যে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক নেই। তবে ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তাদের মাস্ক পড়ে ডিউটি করতে দেখা গেছে। ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস তল্লাশি কেন্দ্র ও প্যাসেজ্ঞার টার্মিনালের আশে পাশে বাইরের যে সমস্ত লোকজন ভিড় করছে তাদের মুখে কোন মাস্ক নেই। ২/৩ জন স্বাস্থ্য সহকারীকে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। এদের মধ্যে একজন উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও একজন গ্যাভি কর্মী (এনজিও) চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছেন।

চেকপোস্ট স্বাস্থ্য বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দুই নার্স ‘নিপা ভাইরাসে’ আক্রান্ত হলে চিকিৎসায় তারা এখন ভাল আছে। ওদেশে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ায় ‘নিপা ভাইরাস’টি আর বাড়েনি। প্রত্যেক যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ আসেনি। তবে পূর্বের ন্যায় ভারত থেকে আসা প্রতিটি যাত্রীর থার্মাল স্ক্যানিং মেশিনে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করছেন। সেসব যাত্রীদের ভাইরাসের লক্ষণ পাওয়া যাবে তাদের পরীক্ষা করা হবে। যে কারণে ঢালাও ভাবে কারো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে না। এ পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত কোন রোগী পাওয়া যায়নি। আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ মোর্ত্তজা আলী বলেন, ভারত থেকে আসা প্রত্যেক যাত্রীকে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে প্রবেশের আগে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেসব যাত্রী মাস্কবিহীন বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন তাদের মধ্যে ফ্রি মাস্ক সরবরাহ করা হচ্ছে। ইমিগ্রেশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনে দায়িত্বরত উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল মজিদ জানান, সরকারি নির্দেশনার পর ভারত সীমান্ত হয়ে আসা সব পাসপোর্টযাত্রীদের হ্যান্ডডিটেক্টর থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্য কর্মীরা ‘নিপা ভাইরাস’ আক্রান্ত কোনো যাত্রী আসছেন কিনা সে ব্যাপারে নজর রাখা হচ্ছে। তবে এ পর্যন্ত ভারত থেকে আসা কোনো পাসপোর্টযাত্রীর দেহে কোন ভাইরাসের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য বিভাগ এ ব্যাপারে সতর্কতায় আছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট