বড়াইগ্রাম প্রতিবেদকঃ
শাওন রোজারিও,
শস্যভাণ্ডারখ্যাত চলনবিল এখন রসুনের সুবাসে ম ম করছে। নাটোরের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ এবং পাবনার চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠে এখন কেবলই রসুনের সবুজ আভা। এ অঞ্চলের কৃষকদের কাছে রসুন এখন আর কেবল একটি মসলা নয়, বরং এটি তাদের ভাগ্য বদলানো ‘সাদা সোনা’।
চলনবিলে গত কয়েক দশক ধরে জনপ্রিয় হওয়া ‘বিনা হালে’ রসুন চাষ পদ্ধতি এ বছরও ব্যাপক হারে অনুসরণ করা হয়েছে। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর পলিযুক্ত জমিতে কোনো চাষ ছাড়াই রসুনের কোয়া রোপণ করা হয়। এতে উৎপাদন খরচ যেমন কমে, তেমনি মাটির উর্বরতাও বজায় থাকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর চলনবিল এলাকায় প্রায় ৩৯ হাজার ৬০৪ হেক্টর জমিতে রসুনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন খরচ ও লক্ষ্যমাত্রা (২০২৬)
চলতি মৌসুমে সার ও বীজের দাম কিছুটা বেশি হলেও রসুনের ফলন বেশ আশাব্যঞ্জক। প্রতি বিঘা জমিতে রসুন চাষে কৃষকদের এবার প্রায় ৪০,০০০ টাকা খরচ হচ্ছে, যা গত বছর ছিল প্রায় ৩৪,০০০ টাকা।তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতি বিঘায় ৩৫ থেকে ৪০ মণ ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। বর্তমানে প্রতি মণ পুরাতন রসুন ১০০০ থেকে ১৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রসুনের বাম্পার ফলনের আশা থাকলেও কৃষকদের চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, মৌসুমের শুরুতে বিদেশ থেকে রসুন আমদানি বাড়লে তারা ন্যায্য মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। এছাড়া অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারের মধ্যে বড় ব্যবধান থেকে যায়, যার ফলে চাষিরা দাম পান না। সরকার সিন্ডিকেটের বিষয়ে লক্ষ রাখবেন বলে আশা রাখছেন স্হানীয় কৃষকরা।