নিজস্ব প্রতিবেদক:
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জেরে এক তরুণীর ওপর এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার নাজিরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ অবস্থায় হালিমা বেগমকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের বিভিন্ন অংশে এসিডের ক্ষত রয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় চলমান একটি সংবেদনশীল মামলাকে কেন্দ্র করে এ হামলার সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি একটি ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হন। ওই ঘটনায় পুলিশকে সহায়তা করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য চামেলী বেগম। পরবর্তীতে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা চামেলী বেগমকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গুরুদাসপুর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুজ্জামান সরকার জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিশোধমূলকভাবে এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গভীর রাতে হালিমা বেগম ঘরের বাইরে বের হলে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার ওপর এসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
নাটোর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোক্তাদির আরেফিন বলেন, এসিডদগ্ধ রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত ও বিশেষায়িত চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। হালিমার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হালিমা বেগমের সুস্থতা কামনায় পরিবার ও স্বজনরা প্রার্থনা করছেন। সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার অপেক্ষায় রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।