নিজস্ব প্রতিবেদক:
রামপালে নৌবাহিনীর স্টাফবাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত অন্তত ১৫; একই পরিবারের বহু সদস্যের করুণ মৃত্যুতে শোকের ছায়া।
বিয়ের আনন্দ নিয়ে ঘরে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো বুকফাটা কান্নায়। বাগেরহাটের
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে বাগেরহাটের মোংলা–খুলনা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রামপাল থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মোংলা পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক তার ছেলের বিয়ে সম্পন্ন করে খুলনার কয়রা এলাকা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী নৌবাহিনীর স্টাফবাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে ওঠে মহাসড়ক।
তিনি জানান, এ দুর্ঘটনায় রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া নৌবাহিনীর স্টাফবাসের অন্তত ১৪ জন সদস্য আহত হয়েছেন এবং তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার স্ত্রী আঞ্জুমান, ভাই সামিউল আলম, তিন ছেলে—বর সাব্বির, ইমরান ও আলামিন। এছাড়া শ্যালিকার দুই মেয়ে পুতুল ও ঐশী, কনে মার্জিয়া মিতু (২৫), কনের ছোট বোন লামিয়া (১২), কনের নানী (৫৮) এবং মাইক্রোবাসের চালক নাঈম শেখ (৩৬) নিহত হয়েছেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ জানান, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত হাসপাতালে ৯ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী এবং তিনজন পুরুষ রয়েছেন। আরও একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তার চিকিৎসা চলছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এবং পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী।
হাসি-আনন্দে ভরা একটি বিয়ের যাত্রা মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকের মিছিলে—এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক ও স্তব্ধতা।