মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৫ অপরাহ্ন

বীর কুমার তনচংগ্যার এভারেস্টের তিন উচ্চতম পাস সাইকেলে জয়
অনলাইন ডেস্ক / ৯৭ বার
আপডেট টাইমঃ মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

 

রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি;-বাংলাদেশের কক্সবাজার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেল চালিয়ে নেপালের এভারেস্ট অঞ্চলের তিনটি উচ্চতম পাস জয় করে অনন্য কীর্তি গড়েছেন রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়ন এর বাসিন্দা সাইক্লিস্ট বীর কুমার তনচংগ্যা।

 

তিনি ‘সি টু হিমালয়াস এক্সপেডিশন ফর অ্যাওয়ারনেস’ শীর্ষক অভিযানে তিনি প্রথম বাংলাদেশি ও প্রথম আদিবাসী সাইক্লিস্ট হিসেবে স্থলপথে সাইকেল চালিয়ে এভারেস্ট অঞ্চলের Kongma La, Cho La ও Renjo La পাসের চূড়ায় পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

অভিযানের সর্বশেষ ধাপে গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) নেপালের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৬ মিনিটে ৫ হাজার ৩৬০ মিটার উচ্চতার Renjo La Pass জয় করেন বীর কুমার। এর আগে গত ১ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৩৩ মিনিটে ৫ হাজার ৪২০ মিটার উচ্চতার Cho La Pass এবং ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে ৫ হাজার ৫৩৫ মিটার উচ্চতার Kongma La Pass জয় করেন তিনি।

 

এভারেস্ট অঞ্চলের দুর্গম ও উচ্চতর তিনটি পাস সাইকেলে অতিক্রমের এ অভিযানে গত ১৪ আগস্ট বীর কুমার কক্সবাজারের জিরো পয়েন্ট থেকে স্থলপথে সাইকেল চালিয়ে নেপালের হিমালয় অঞ্চলে পৌঁছান। দীর্ঘ পথের নানা প্রতিকূলতা, দুর্গম পাহাড়ি পথ ও উচ্চতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি একে একে তিনটি পাসের চূড়ায় সাইকেল নিয়ে পৌঁছান।

এর আগে বীর কুমার তনচংগ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

অভিযান শেষে আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বীর কুমার তনচংগ্যা এই গণমাধ্যমকে জানান, “এই অর্জন শুধু আমার একার নয়—এটি আমার পাশে থাকা প্রত্যেক মানুষের। আপনাদের ভালোবাসা, সহযোগিতা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণাই আমার পথচলার শক্তি।”

তিনি জানান, “কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেল চালিয়ে হিমালয়ের উচ্চতায় পৌঁছানো এবং এভারেস্ট অঞ্চলের তিনটি উচ্চতম পাস জয় করা আমার জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের। পথটি সহজ ছিল না। তবে বাংলাদেশের পতাকা ও নিজের এলাকার মানুষের ভালোবাসা আমাকে প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে সাহস জুগিয়েছে।

 

বীর কুমার তাঁর অভিযানে সহযোগিতার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ও রাঙামাটি হতে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দীপেন দেওয়ান স্যারের সার্বিক সহযোগিতা ও তাঁর কল্যাণে ভিসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় এই এক্সপেডিশনে অংশ নিতে পেরেছি। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যারা আমাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাঁদের সবার প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”

বীর কুমার আরও জানান, “আমার এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য শুধু রেকর্ড সৃষ্টি নয়; সাইক্লিং, পরিবেশ সচেতনতা ও মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়া। ‘Sea to Himalayas—Expedition for Awareness’ সেই লক্ষ্যেই আমার একটি প্রচেষ্টা। বীর কুমারের এই সাফল্য দেশের তরুণদের সাইক্লিং ও অ্যাডভেঞ্চারভিত্তিক কার্যক্রমে আরও বেশি উৎসাহিত করে তলবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট