রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭ অপরাহ্ন

অনলাইন ডেস্ক / ২২ বার
আপডেট টাইমঃ রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬

 

 

পুঠিয়া(রাজশাহী)প্রতিনিধি:

 

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে উদ্বেগজনক ছবি সামনে এসেছে। উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় বসেও পাস করতে পারেননি কোনও পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে একটি মহিলা কলেজ এবং দু’টি আলিম মাদ্রাসা রয়েছে। অথচ ওই তিন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় ৩০, ২৮ ও ২৭ জন। ফলাফল ঘিরে শিক্ষার মান, নিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্বপালন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুঠিয়া উপজেলার ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১,৯৪১ জন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭৬১ জন। সামগ্রিক পাসের হার ৩৯.২১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ১৪ জন। অন্য দিকে, তিনটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য।

 

জেনারেল বোর্ডের অধীনে থাকা বেলপুকুর মহিলা কলেজ এ বছর উপজেলার একমাত্র শূন্য-পাস প্রতিষ্ঠান। ওই কলেজ থেকে পাঁচ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। কলেজটিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে রয়েছেন প্রায় ৩০ জন। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

 

ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমার কলেজ যেহেতু মহিলা কলেজ, তাই অনেক সময় দেখা যায়, ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে ফরম পূরণের পরে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় আর পরীক্ষায় বসেন না। ফেল করার ভয়েও অনেকে পরীক্ষা দেন না। তবে আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিগত দিনের ফলাফল খুবই ভাল।”

 

একই ছবি দেখা গিয়েছে উপজেলার চকদমাদি আলিম মাদ্রাসায়। এ বছর আলিম পরীক্ষায় ওই প্রতিষ্ঠান থেকে এক জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তিনিও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। মাদ্রাসার দাখিল ও আলিম শাখা মিলিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ২৮ জন।

 

মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দাবি, আলিম শাখা এখনও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকদের পাঠদানে আগ্রহ কমেছে। তাঁর কথায়, “আলিম শাখা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে পাঠদানের গুরুত্ব কমে গিয়েছে। শিক্ষকরা নিয়মিত মাদ্রাসায় আসেন না। এই মুহূর্তে এক জন পাবনায়, অন্য জন ঢাকায় রয়েছেন। ছাত্ররাও পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।”

 

ধোকড়াকুল আলিম মাদ্রাসার ফলাফলও একই রকম। এ বছর ওই প্রতিষ্ঠান থেকে সাত জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি। সেখানে দাখিল ও আলিম শাখা মিলিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন প্রায় ২৭ জন।

 

ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ হিসাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ওসমান গনি। তিনি বলেন, “শিক্ষকরা বেতন পান না। আর কত দিন বিনা পারিশ্রমিকে পড়াবেন? আলিম শাখাটি এমপিওভুক্ত হলে তখন শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব দিয়ে পড়াশোনা করানো সম্ভব হত।”

 

তবে শুধু শূন্য-পাস প্রতিষ্ঠান নয়, সামগ্রিক ফলাফলও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। জেনারেল বোর্ডের অধীনে পুঠিয়া উপজেলায় সর্বোচ্চ পাসের হার শহীদ নাদের আলী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে। ওই প্রতিষ্ঠানের ১৬২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৬৭.২৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিন জন।

 

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বানেশ্বর সরকারি কলেজ। সেখানে ৪৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫৭ জন পাস করেছেন। পাসের হার ৫৬.৯৮ শতাংশ। উপজেলায় সর্বোচ্চ পাঁচ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন এই কলেজ থেকেই। তৃতীয় স্থানে থাকা জামিরা কলেজের ৮০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৩ জন। পাসের হার ৫৩.৭৫ শতাংশ।

 

এ ছাড়া পুঠিয়া ইসলামিয়া মহিলা কলেজে ১৩৬ জনের মধ্যে ৬৮ জন (৫০ শতাংশ), আইডিয়াল কলেজে ৭৯ জনের মধ্যে ২৮ জন (৩৫.৪৪ শতাংশ), পঙ্গুশিশু নিকেতন কলেজে ৬৯ জনের মধ্যে ২৪ জন (৩৪.৭৮ শতাংশ), ধোঁকরাকুল কলেজে ৬৩ জনের মধ্যে ২০ জন (৩১.৭৫ শতাংশ), পচামাড়িয়া কলেজে ২০৬ জনের মধ্যে ৫৭ জন (২৭.৬৭ শতাংশ), পুঠিয়া মহিলা কলেজে ৩৪ জনের মধ্যে ন’জন (২৬.৪৭ শতাংশ), লস্করপুর ডিগ্রি কলেজে ৯৫ জনের মধ্যে ২৩ জন (২৪.২১ শতাংশ) এবং বিড়ালদহ কলেজে ২৫৫ জনের মধ্যে ৬১ জন (২৩.৯২ শতাংশ) উত্তীর্ণ হয়েছেন।

 

অন্য দিকে, পুঠিয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২৬ জনের মধ্যে চার জন (১৫.৩৮ শতাংশ), ধোপাপাড়া মেমোরিয়াল কলেজে ১৮৮ জনের মধ্যে ২৭ জন (১৪.৩৬ শতাংশ) এবং সরদা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ১০ জনের মধ্যে মাত্র এক জন (১০ শতাংশ) পাস করেছেন।

 

এই পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং ফলাফল খারাপ হওয়ার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে। এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা আধিকারিক আবু জাফর আলী বলেন, “শিক্ষকরা এ ভাবে গুরুত্বহীন ভাবে পড়াশোনা করাতে পারেন না। কেন ফলাফল খারাপ হল, সেই বিষয়গুলি খুঁজে বের করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।”

 

শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, এখন সে দিকেই নজর অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট