প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী প্রতিনিধ
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় ইমতিয়াজ হোসেন (২২) নামে এক তরুণের মরদেহ সাড়ে ১৭ মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ (হাড়গোড়) উত্তোলন করা হয়।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট ভোরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমতিয়াজ হোসেন মারা যান। ওইদিন রাতেই গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চাটখিল পৌরবাজারে জনতার আনন্দ মিছিলে অংশ নেন ইমতিয়াজ। এ সময় চাটখিল থানায় হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। ঘটনার কিছুক্ষণ পর তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়; আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইমতিয়াজ নিহত হয়েছেন। এ অভিযোগে নিহতের বাবা মো. হাবিবুর রহমান গত বছরের ২২ মে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নোয়াখালী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহীম, সাবেক মেয়র নিজাম উদ্দিন মোহাম্মদ উল্ল্যাহসহ ৫৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ৭০ থেকে ৮০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। মামলার তদন্তের স্বার্থে আদালতের আদেশে মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
মরদেহ উত্তোলনের সময় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদত হোসেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চাটখিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
নিহতের বাবা মো. হাবিবুর রহমান বলেন,
“আমার ছেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। ৫ আগস্ট সে আমার সঙ্গেই বিজয় মিছিলে যায়। সেদিনই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আমি আমার সন্তানের হত্যার বিচার চাই।”
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোনাফ জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য তা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের মৃত্যুর প্রায় দুই মাস পর ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ইমতিয়াজের বাবা তাকে ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতির জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। পরবর্তীতে তিনি শহীদের স্বীকৃতি পেলেও পরে সেই স্বীকৃতি স্থগিত করা হয়।