মোঃ শান্ত শেখ টুঙ্গিপাড়া গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মল্লিকেরমাঠ-শ্রীরামকান্দি সড়কের পাশে সরকারি জায়গা দখল করে পাকা দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের কাজ চললেও বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, আমিনুল শেখ, পিতা আজহারউদ্দীন শেখ সরকারি জায়গা দখল করে সেখানে পাকা দোকানঘর নির্মাণ করছেন। ইতোমধ্যে নির্মাণকাজ অনেকটা এগিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। এতে একদিকে সরকারি সম্পত্তি বেদখল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সড়কের জায়গা সংকুচিত হয়ে ভবিষ্যতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
শুধু সড়কের পাশের সরকারি জায়গা নয়, একই এলাকায় রাস্তার বিপরীত পাশে অবস্থিত আদর্শ গ্রামের পুকুরের জায়গা দখল করে একাধিক পাকা দোকান নির্মাণ ও ভাড়া দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে পুকুরের জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করে সেগুলো ভাড়া দিয়ে আসছে। দোকানগুলো থেকে প্রতিদিনের ময়লা-আবর্জনা পুকুরে ফেলা হচ্ছে। ফলে পুকুরের পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। এতে পরিবেশের পাশাপাশি স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি জায়গা ও জনসাধারণের ব্যবহারের পুকুর এভাবে ধীরে ধীরে দখল হতে থাকলে ভবিষ্যতে দখলের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এতে সরকারি সম্পত্তি রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের চলাচল ও পরিবেশ সুরক্ষাও হুমকির মুখে পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে সরকারি সম্পত্তির সঠিক সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং পুকুরটি দখলমুক্ত করে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি জায়গা দখলের প্রবণতা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দিদারুল আলম মুঠোফোনে বলেন, “তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করাহেব।”
অভিযোগের বিষয়ে আমিনুল শেখ বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানে ঘর স্থাপন করে ব্যবসা করে আসছি। আগে কাঁচাঘর ছিল। সেটি ভেঙে নতুন করে পাকা স্থাপনা তৈরি করছি।”
তবে সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বৈধ অনুমোদন বা মালিকানার বিষয়ে তার বক্তব্যে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের তদন্তের পরই সরকারি সম্পত্তির প্রকৃত অবস্থান ও দখলের বৈধতা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।