মোঃ শান্ত শেখ টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে সাংবাদিক জসিম মুন্সীর উদ্যোগে জমজমাট চার দলীয় হাডুডু টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এ খেলাকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
টুর্নামেন্টে চারটি দল অংশ নেয়। খেলা শুরুর আগে লটারির মাধ্যমে দলগুলোর প্রতিপক্ষ নির্ধারণ করা হয়। প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় দক্ষিণ বর্ণী মুন্সীবাড়ি ও বর্ণী পূর্বপাড়া দল। দুই দলের মধ্যে চলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে জয়লাভ করে দক্ষিণ বর্ণী মুন্সীবাড়ি দল ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় দক্ষিণ বাশুড়িয়ার নেয়ামত শেখের দল ও বর্ণী খাড়াপাড়ার হাবিবুরের দল। উত্তেজনাপূর্ণ এ ম্যাচে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে দক্ষিণ বাশুড়িয়ার নেয়ামত শেখের দল।
পরে ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয় দক্ষিণ বর্ণী মুন্সীবাড়ির সাংবাদিক জসিম মুন্সীর দল ও দক্ষিণ বাশুড়িয়ার নেয়ামত শেখের দল। শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে চলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। মাঠজুড়ে ছিল উত্তেজনা ও দর্শকদের উচ্ছ্বাস।
শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচে ১ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করে সাংবাদিক জসিম মুন্সীর দক্ষিণ বর্ণী মুন্সীবাড়ি দল। দুর্দান্ত খেলায় জয় নিশ্চিত করে শিরোপা নিজেদের করে নেয় দলটি।
খেলাটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেন স্থানীয়ভাবে পরিচিত জনপ্রিয় হাডুডু খেলোয়াড় ও রেফারি কালু টাইগার। তাঁর দক্ষ রেফারিং, খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ এবং পুরো ম্যাচে সতর্ক নজর রাখার কারণে আয়োজনটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়।
খেলা দেখতে বর্ণী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত নৈপুণ্য, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ এবং ফাইনালের টানটান উত্তেজনায় পুরো মাঠ ছিল উৎসবমুখর।
আয়োজক সাংবাদিক জসিম মুন্সী বলেন, “গ্রামীণ জনপদে হাডুডুসহ দেশীয় খেলাধুলার ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং তরুণদের মাঠমুখী করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও স্থানীয় খেলাধুলার উন্নয়নে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।”
খেলাটি সুন্দরভাবে পরিচালনা করায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে রেফারি কালু টাইগারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানো হয়। আয়োজকরা বলেন, খেলোয়াড়দের প্রতি তাঁর আন্তরিক আচরণ, দক্ষতা ও সুন্দর রেফারিংয়ের কারণে পুরো খেলাটি মনোরম পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয়দের কাছে ‘কালু টাইগার’ নামে পরিচিত এই জনপ্রিয় হাডুডু খেলোয়াড় বর্তমানে বিভিন্ন হাডুডু ম্যাচে রেফারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সুন্দর রেফারিংয়ের প্রশংসা করে আয়োজক ও খেলোয়াড়রা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর জন্য সর্বোচ্চ দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করেন।