বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ন

আশুলিয়ায় পারভেজ ও শাহিনের নেতৃত্ব ভেকু- সন্ত্রাস:প্রকাশ্যে কৃষিজমির মাটি লুট,নির্বিকার প্রশাসন
অনলাইন ডেস্ক / ১৯৮ বার
আপডেট টাইমঃ সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক,নান্নু মিয়া:

ঢাকার আশুলিয়ায় পারভেজ ও শাহিন নামে দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে সংগঠিত ভেকু (এক্সকাভেটর) সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করার ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। দিনের আলো থেকে গভীর রাত—চব্বিশ ঘণ্টাই চলছে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড। এতে ধ্বংসের মুখে পড়েছে এলাকার ফসলি জমি, পরিবেশ ও কৃষিনির্ভর জীবনব্যবস্থা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়ার একাধিক এলাকায় পারভেজ ও শাহিনের সহযোগীরা একাধিক ভেকু ব্যবহার করে কৃষিজমির উপরিভাগের মূল্যবান টপ সয়েল কেটে ট্রাকযোগে সরিয়ে নিচ্ছে। এসব মাটি ইটভাটা ও বিভিন্ন ভরাট প্রকল্পে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাটি লুট হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান,
“রাতভর ভেকুর বিকট শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। জমির মাটি কেটে নিয়ে গেলে কৃষিকাজ শেষ হয়ে যায়। কেউ প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়া হয়।”
কৃষকদের ভাষ্যমতে, যেসব জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো ইতোমধ্যে চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। জমির স্বাভাবিক স্তর নষ্ট হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে মারাত্মক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়ছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিজমির টপ সয়েল কাটা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও কৃষিজমি সুরক্ষা আইন অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ। কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়া ভেকু দিয়ে মাটি কাটা সরাসরি দণ্ডনীয় অপরাধের মধ্যে পড়ে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এত বড় পরিসরে প্রকাশ্যে কৃষিজমির মাটি কাটা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ভ্রাম্যমাণ আদালত, অভিযান কিংবা দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—এই অবৈধ ভেকু-সন্ত্রাস কি কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় চলছে?
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পারভেজ ও শাহিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, পারভেজ ও শাহিনের নেতৃত্বে মাটি কাটার সংবাদ প্রকাশের পরও প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আক্তারের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, অবৈধ ভেকু জব্দ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আশুলিয়ার কৃষি ও পরিবেশ অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো নিউজ
জনপ্রিয় পোস্ট
সর্বশেষ আপডেট