আবদুল্লাহ আল শাহিদ খান
ববি প্রতিনিধি
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শিক্ষার্থীদের খাবারের একমাত্র ভরসা কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া। তবে দীর্ঘদিন ধরে খাবারের দাম, মান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে চরম অসন্তোষে ভুগছেন শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ উঠেছে—অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় এখানে খাবারের দাম বেশি, অথচ মান নিম্নমানের। এমনকি কখনো কখনো খাবারে পোকামাকড় পাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের কোনো নির্দিষ্ট মূল্য তালিকা নেই। ফলে একই খাবার ভিন্ন সময়ে ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
“ক্ষুধা নিবারণের জায়গা এখন দুঃখের কারণ”
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী রাব্বি ভুঁইয়া বলেন,
“শিক্ষার্থীরা ক্লান্ত শরীরে ক্যাফেটেরিয়ায় এসে স্বস্তি পাওয়ার কথা। কিন্তু খাবারের মধ্যে পোকা থাকলে সেই স্বস্তি মুহূর্তেই দুঃখে পরিণত হয়। খাবারের দাম যেমন বেশি, মানও তেমনই খারাপ। এমন খাবার শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া যেন নষ্ট খাবারের এক ব্যবসায়ী আড়তে পরিণত হয়েছে।”
ওয়াশরুম ও কিচেন অস্বাস্থ্যকর
অন্য শিক্ষার্থী ইফতেখার সায়েম বলেন,
“ক্যাফেটেরিয়ার ওয়াশরুম ও কিচেন দুটিই অস্বাস্থ্যকর। খুব জরুরি না হলে কেউ এই ওয়াশরুম ব্যবহার করতে চায় না। কিচেন অস্বাস্থ্যকর হওয়ায় মাঝেমধ্যে খাবারে পোকামাকড় দেখা যায়। এসব বিষয় গণমাধ্যমে এলে পুরো বাংলাদেশের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।”
তিনি আরও বলেন, খাবারের মান খারাপ হলেও দাম বেশি হওয়ায় ক্যাফেটেরিয়াকে শিক্ষার্থীবান্ধব বলা যায় না। পাশাপাশি খাবারের মেনু বাড়ানো ও নারীদের জন্য নির্ধারিত বসার স্থানের পরিচর্যার দিকেও নজর দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বাইরের দোকানের চেয়ে বেশি দাম
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিভিন্ন খাবারের দোকানে যেখানে মুরগির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়, সেখানে ক্যাফেটেরিয়ায় একই খাবারের দাম ৪০ টাকা। মাছসহ অন্যান্য খাবারের ক্ষেত্রেও বাইরের দোকানের তুলনায় ক্যাফেটেরিয়ার দাম বেশি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ১০ টাকায় বিক্রি হওয়া রোলের আকারও দামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মাঝে মাঝে বাসি খাবার পরিবেশনের অভিযোগও রয়েছে।
ক্যাফেটেরিয়া পরিচালকের বক্তব্য
খাবারের মূল্য তালিকা না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক মো. মামুন বলেন,
“নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া মূল্য তালিকা টাঙানো যায় না। আমি অনেক আগেই উপর মহলে দরখাস্ত করেছি, কিন্তু এখনো কোনো সাড়া পাইনি।”
খাবারের দাম বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন,
“সারাদেশেই পণ্যের দাম বেড়েছে। বাইরে দোকানগুলোতে কর্মচারী নেই, নিজেরাই ব্যবসা করে—তাই তাদের খরচ কম। কিন্তু এখানে কর্মচারীদের বেতনসহ পরিচালন ব্যয় বেশি, ফলে কিছু খাবারের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি রাখতে হয়।”
খাবারে পোকামাকড় পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“একসঙ্গে অনেক খাবার রান্না হয়। হয়তো কখনো পোকা উড়ে এসে খাবারের মধ্যে পড়তে পারে, যা আমাদের অগোচরে ঘটে গেছে।”
ইজারা মেয়াদ শেষ, নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)-এর পরিচালক ও ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মো. তারিকুল হক বলেন,
“বর্তমান ইজারাদারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে ইজারা দিতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে আমরা ফাইল প্রস্তুত করে ভিসি স্যারের কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। সই হলেই নতুন ইজারার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।”
মূল্য তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“আমি তাকে মূল্য তালিকা টাঙাতে বলেছি। বিষয়টি নিয়ে আবারও কথা বলছি।”
খাবারের দাম সম্পর্কে তিনি আরও জানান,
“বর্তমান ইজারাদারের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় আমরা নতুন টেন্ডার না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তি ছাড়া তাকে রেখেছি। এ কারণে দামের বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারছি না। নতুন টেন্ডার হলে আমরা চেষ্টা করবো মান বজায় রেখে দাম কমানোর।”
শিক্ষার্থীদের দাবি
শিক্ষার্থীরা দ্রুত ক্যাফেটেরিয়ার অনিয়ম বন্ধ, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিতকরণ, নির্দিষ্ট মূল্য তালিকা টাঙানো এবং শিক্ষার্থীবান্ধব দামে মানসম্মত খাবার সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।